শীতে কাঁপেন বলে রাতেও মোজা পরে ঘুমোচ্ছেন? সাময়িক স্বস্তি পেলেও কোনও সমস্যা হবে না তো?

7th January 2024 8:06 pm Country News
শীতে কাঁপেন বলে রাতেও মোজা পরে ঘুমোচ্ছেন? সাময়িক স্বস্তি পেলেও কোনও সমস্যা হবে না তো?


পৌষের শীতে মোটামুটি সকলেই কাবু। সোয়েটার, মোজার খোলস থেকে বেরোলোই শিউরে উঠতে হচ্ছে। হিমেল হাওয়ার স্পর্শ থেকে বাঁচতে তাই সারা ক্ষণ মোজা পরে থাকছেন অনেকেই। ঠান্ডায় মোজা পরে থাকা ভাল। পা ফাটার ঝুঁকি কমে। মোজা পরে থাকলে পা আর্দ্র থাকে। ফলে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় না। তবে অনেকে আবার শীতের রাতেও মোজা পরে ঘুমোন। এই অভ্যাস ক্ষতিকর, না কি এর কোনও উপকারিতা আছে, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কারও মতে, মোজা পরে ঘুমোনো উচিত নয়। কেউ আবার বলেন, মোজা পরে শোয়ার কিছু ভাল দিক রয়েছে। এটা ঠিক যে, মোজা পরে ঘুমোনোর কিছু সুবিধা রয়েছে। সেগুলি কী?

১) শীতে পা সবচেয়ে বেশি আর্দ্রতা হারায়। বাকি অংশগুলির তুলনায় শুষ্ক হয়ে যায়। তাই পা যদি মোজার আড়ালে রাখা যায়, তা হলে আর এই সমস্যা হয় না।

 

২) মোজা পরা থাকলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এর ফলে তাড়াতাড়ি ঘুমও চলে আসে। অনিদ্রার সমস্যা একেবারে দূরে চলে যায়। ঘুমও শান্তির হয়।

৩) অনেক সময় পায়ের পাতা ও আঙুলগুলি রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে ফুলতে শুরু করে। একে চিকিৎসার ভাষায় ‘রেডনস অ্যাটাক’ বলে। মোজা পরলে সেই সমস্যা হয় না।

৪) মোজা পরা থাকলে পায়ের রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ফলে পেশিতে টান কিংবা অন্য কোনও সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। পায়ের মাস্‌লগুলিতেও রক্ত চলাচল ভাল হয়।

 

মোজা পরে ঘুমোনোর কিছু সুবিধা থাকলেও কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সিন্থেটিক মোজা একেবারে না পরাই ভাল। আবার খুব বেশি চাপা মোজা পরলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতে পারে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।